
একই সঙ্গে চলতি বছর এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের মোট কর্মী ছাঁটাইয়ের অর্ধেকই হয়েছে এ প্রতিষ্ঠানে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ন নোটিস, টেকক্রাঞ্চ, ট্রুআপ ও লেঅফস ডট এফওয়াইআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে রেশনাল এফএক্স জানায়, গত অক্টোবরে ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পর গত মাসে আরো ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাঁটাইয়ের ফলে বছরের প্রথম দুই মাস পার হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে চাকরি হারানো কর্মীর সংখ্যা ৩০ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। খাতটির মোট ছাঁটাইয়ের ৫২ শতাংশই হয়েছে এককভাবে অ্যামাজনে। এর আগে গত বছর ১৯ হাজার ৫৫৫ কর্মী ছাঁটাই করে এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্বজুড়ে অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও বর্তমানে জনবল পুনর্গঠনে ব্যস্ত সময় পার করছে। লোকসান কমিয়ে আনা সত্ত্বেও ইউরোপীয় সেমিকন্ডাক্টর ও লাইটিং গ্রুপ এমস ওসরাম প্রায় দুই হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে মেটা, এএসএমএল, ব্লক, অটোডেস্ক, সেলসফোর্স, ওকাডো এবং পিন্টারেস্ট প্রত্যেকে ৬৭৫ থেকে ১ হাজার ৯০০ জন পর্যন্ত কর্মী ছাঁটাই করেছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অটোমেশনের দিকে বিশেষ নজর দিতেই এ কৌশলগত পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোয় এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারই এ ছাঁটাইয়ের অন্যতম কারণ। গত বছর বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের মোট ছাঁটাইয়ের প্রায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশই ছিল অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির প্রভাবে। চলতি বছরের শুরুতেই অন্তত ১ হাজার ৪৩০ জন কর্মী এআই-সংক্রান্ত কারণে চাকরি হারিয়েছেন, যার মধ্যে পিন্টারেস্ট একাই ১৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে। এসব ছাঁটাইয়ের মূল লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে করপোরেট, পণ্য উৎপাদন ও সহায়তা (সাপোর্ট) পর্যায়ের পদগুলো।
