
ইউরোপিয়ান এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০০০-২২ সালের মধ্যে নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে মোট পানি উত্তোলন কমেছে। তবে ভূগর্ভস্থ পানি আহরণ ৬ শতাংশ বেড়েছে, যার বেশিরভাগ ব্যবহৃত হয়েছে জনসাধারণের পানি সরবরাহে (১৮ শতাংশ) এবং কৃষিকাজে (১৭ শতাংশ)।
ইউরোপের বিশাল অংশে দ্রুত কমছে মিঠা পানির মজুদ। স্পেন ও ইতালি থেকে শুরু করে পোল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের কিছু এলাকাসহ দক্ষিণ ও মধ্য ইউরোপে নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ জলভাণ্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে। গত দুই দশকের স্যাটেলাইট ডাটার বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) গবেষকরা ওয়াটারশেড ইনভেস্টিগেশনস ও দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে মিলিতভাবে ২০০২-২৪ সালের স্যাটেলাইট ডাটা বিশ্লেষণ করেন। পৃথিবীর মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের পরিবর্তন শনাক্ত করতে সক্ষম এসব স্যাটেলাইট মিঠা পানির সঞ্চয় কমছে কিনা তা নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়েছে।
ভূগর্ভস্থ পানি, নদী-হ্রদ, মাটির আর্দ্রতা কিংবা হিমবাহের বরফের পরিবর্তন মহাকর্ষীয় সংকেতে ধরা পড়ে। সেখান থেকেই বোঝা যায় কোথায় কতটা পানি জমা আছে বা কমছে।
উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ, যেমন স্ক্যান্ডিনেভিয়া, যুক্তরাজ্যের কিছু অংশ ও পর্তুগালে বৃষ্টিপাত বেড়েছে। ফলে এসব অঞ্চল আগের তুলনায় আরো আর্দ্র হয়ে উঠছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের দক্ষিণাংশ, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, রোমানিয়া ও ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে।
গবেষকদের মতে, স্যাটেলাইট তথ্য জলবায়ু বিপর্যয়ের স্পষ্ট চিহ্ন তুলে ধরছে। ইউসিএলের পানি সংকট ও ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা বলেন, পানির বাড়া–কমা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গেই সম্পর্কিত। তিনি বলেন, এখনো অনেক রাজনৈতিক নেতা কার্বন নিঃসরণ কমানো নিয়ে সন্দিহান, কিন্তু এই তথ্য তাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।
শামসুদ্দোহা বলেন, ‘আমরা এখন আর কেবল তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার কথা ভাবছি না। শিল্পায়নের আগের তুলনায় পৃথিবীর তাপমাত্রা এখন প্রায় ২ ডিগ্রি বাড়তে চলেছে, যার প্রভাব আমরা এরইমধ্যে দেখছি।’
গবেষক আরিফিন জানান, তারা স্থলভাগের মোট পানির তথ্য থেকে ভূগর্ভস্থ পানিকে আলাদা করে বিশ্লেষণ করেন। তিনি নিশ্চিত করছেন, ইউরোপের অনেক ভূগর্ভস্থ মিঠা পানি দ্রুত কমছে।
বিশ্লেষকরা জানান, ভূগর্ভস্থ পানি সাধারণত নদী বা হ্রদের তুলনায় জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবের দিকে বেশি সহনশীল। তবে গ্রীষ্মে ভারী বৃষ্টি হলে পানি মাটিতে ভালোভাবে জমতে পারে না, বরং নদী বা পৃষ্ঠের নেমে হঠাৎ বন্যার সৃষ্টি হয়। শীতকালে যে সময়ে ভূগর্ভস্থ পানি পুনরায় ভরার কথা, সেই সময়কালও এখন ছোট হয়ে আসছে। তাই মাটির নিচে পানি পর্যাপ্তভাবে জমছে না।
ইউরোপিয়ান এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০০০-২২ সালের মধ্যে নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে মোট পানি উত্তোলন কমেছে। তবে ভূগর্ভস্থ পানি আহরণ ৬ শতাংশ বেড়েছে, যার বেশিরভাগ ব্যবহৃত হয়েছে জনসাধারণের পানি সরবরাহে (১৮ শতাংশ) এবং কৃষিকাজে (১৭ শতাংশ)।
ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র বলেন, ইউভুক্ত দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে এবং মানবসৃষ্ট চাপ মোকাবিলা করতে সহায়তা করা হচ্ছে।
